আপনাদের প্রশ্ন

মৌসুনি দ্বীপ সম্পর্কে কিছু কথা

পর্যটকদের  দম চাপা ভিড় নেই, নেই শপিংয়ের জন্য হুড়োহুড়ি। কিন্তু দু’দিন সময় হাতে থাকলেই বেড়িয়ে আসতে পারেন সাগরপারে। 

এ রাজ্যের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে মৌসুনি দ্বীপ। সেখানেই বালিয়াড়া বিচ। তার প্রায় উপরে সারি সারি তাঁবু পাতা। জন কোলাহলের বাইরে এ এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা!   

স্থানীয় বাড়ির মহিলারা মাছ ধরতে আসে জাল নিয়ে। সমুদ্র ওদের খোরাক জোগায়। রুটি-রুজির খোঁজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও লড়াই করে। শহুরে মানুষ মহিলাদের মাছ ধরা দেখে অবাক ই হবে।

সমুদ্রতট ধরে হাঁটাহাঁটি করে যতদূর ইচ্ছে চলে যেতে পারেন। ভিড়ে ঠাসা হয়ে নাস্তানাবুদ হতে হবে না। বিচ ধরে বামদিকে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। মনোরম ম্যানগ্রোভের হাতছানিতে আপনার মনে হবে -পৌঁছে গেলাম কোনও এক অচেনা-অজানার দেশে।

চোখে পড়বে সমুদ্র তট জুড়ে লাল কাঁকড়ার ভিড়। ছুটোছুটির এক ভিন্ন খেলা দেখে আনন্দ পাবেন। নানা পাখির কলরব শোনা যাবে এখানে। পাখি -প্রেমিকদের কাছে মৌসুনি দ্বীপ গ্রহ্ণযোগ্য হতে পারে।

Mousuni Island
Mousuni Island

কিভাবে যাবেন মৌসুনি দ্বীপে?

কলকাতা থেকে মাত্র ৪-৫ ঘন্টায় যাওয়া যায় এই দ্বীপে। ১১০কিমির পথ। সড়কপথে, বাইকে, নিজস্ব গাড়িতে এবং ট্রেনে যাওয়া যায় ৷

যারা বাসে যেতে চান তারা ধর্মতলা থেকে বাস ধরে নামখানা বাসস্ট্যান্ডে আসবেন। বাস ভাড়া ১০০ টাকার মধ্যে।

আর ট্রেনে গেলে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে নামখানা যেতে হবে।

ট্রেনে ঘন্টা ৩ সময় লাগে। ট্রেন থেকে নেমে মৌসুনি দ্বীপে দুভাবে যাওয়া যায়।

আসলে মৌসুনি দ্বীপে যেতে একটা নদী পারাপার করতে হয় যার নাম চেনাই নদী। এই নদীর দুটো ঘাট একটা হুজ্জুতের ঘাট এবং আর একটি বাগডাঙা ঘাট।

হুজ্জুতের খেয়াঘাট হয়ে যেতে চাইলে নামখানা স্টেশন থেকে টোটো করে হুজ্জুতের ঘাট যাবেন। ভাড়া মাত্র ৫০টাকা। আর যদি বাগডাঙা হয়ে যেতে চান তাহলে নামখানা স্টেশনে নেমে টোটোয় করে নামখানা বাসস্ট্যান্ডে যাবেন। টোটো ভাড়া মাত্র ১০টাকা। এখান থেকে ম্যাজিক গাড়ি করে যেতে হবে বাগডাঙা খেয়াঘাট বা দুর্গাপুর খেয়াঘাট। ভাড়া ২৫টাকা।

যারা অবশ্য গাড়িতে আসবেন তারা হুজ্জুত ঘাট হয়ে আসবেন কারণ এখানে রয়েছে গাড়ি পার্কিং এর সুবিধা। গাড়ি পার্কিং-এ ছোট গাড়িতে ভাড়া ১০০টাকা, মাঝারি গাড়িতে ১৫০টাকা এবং বাস হলে ভাড়া লাগে ২০০ টাকা। খেয়া ভাড়া ৫ টাকা। খেয়া পারাপার করে টোটো করে পৌঁছে যাবেন মৌসুনি দ্বীপে। 

কি কি পাবেন মৌসুনি দ্বীপে মাত্র ১০০০ টাকায়?

পৌছতেই এখানে দেওয়া হয় ওয়েলকাম ড্রিংকস। এখানে থাকার জন্য টেন্ট আছে, মাটির ঘর আছে। এখানকার প্রাকৃতিক অবস্থা ভালো নয় বলে হোটেল করা যায় না। থাকা-খাওয়া নিয়ে দুজন থাকার টেন্টে জনপ্রতি ১০০০ টাকা, ফ্যামিলি টেন্টে জনপ্রতি ১০০০টাকা এবং মাটির ঘর আছে ১২০০ টাকা করে। 

লাঞ্চে ভাত, ডাল, আলুভাজা, তরকারি, মাছ, চাটনি, পাপড়, মিষ্টি। বিকেলে চা/কফি মুড়ি চপ, ডিনারে রুটি বা ভাত, মাংস। পরেরদিন সকালে চা বিস্কুট এবং ব্রেকফাস্টে লুচি, তরকারি।

লাঞ্চ করে বিকেলে বেড়িয়ে পড়তে পারেন মৌসুনি দ্বীপ দেখতে। যেখানে গঙ্গা আর বঙ্গোপসাগরের মোহনা দেখা যায়।

মৌসুনি দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ

প্রকৃতি, সমুদ্র সৈকতই কিন্তু মৌসুনি দ্বীপের এক এবং একমাত্র আকর্ষণ। আলাদা করে মৌসুনি দ্বীপে কোনো সাইটসিন নেই।
দিনের বিভিন্ন সময়ে সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন রূপ উপভোগ করা, সমুদ্র সৈকত এক্সপ্লোর করা এবং ঘন্টার পর ঘন্টা সমুদ্র স্নান – এইটাই হলো মৌসুনি দ্বীপের বিশেষ আকর্ষণ।

এছাড়াও নৌকা করে চলে যেতে পারেন জম্বুদীপের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যের সময় এখানকার সমুদ্রের এক অপরূপ সৌন্দর্য। সন্ধ্যে হয়ে গেলে সমুদ্রতটে টর্চ নিয়ে হাটলে দেখা যায় মাটিতে জ্যান্ত শামুক, ঝিনুক চলাফেরা করছে। এছাড়াও ক্যাম্পে বন ফায়ারের ব্যবস্থা করা হয়।

 

 

পরেরদিন সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে প্রাকৃতিক শোভা দেখে ওখানকার সামাজিক অবস্থা দেখতে বেরোতে পারেন। অনেক অজানা জিনিস জানতে পারবেন।

এখানকার মানুষজনের সাথে কথা বলতে পারেন। তাদের একমাত্র জীবিকা এখানে মাছ ধরা। মহিলারাও সমান তালে কাজ করছেন। আবার টেন্ট ছাড়ার সময় হয়ে গেলে ফিরে চলুন নিজের জায়গায়। আবার রোজকার কর্মব্যস্ত জীবন। 

Please Share:

Share on whatsapp
WhatsApp
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on pinterest
Pinterest